দীর্ঘ ৭ বছরেও তৈরী হলোনা টমেটো প্রসেসিং সেন্টার।

জলপাইগুড়ি, ১৯ শে আগস্ট – দীর্ঘ ৭ বছরেও তৈরী হলো না টমেটো প্রসেসিং সেন্টার। বেরুবাড়িতে শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের শিলান্যাস করা প্রোসেসিং অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার ফর টম্যাটো পাওডার অ্যান্ড অ্যায়ায়েড প্রোডাক্ট র শিল্প ইউনিট তৈরী এখন বিশ বাঁও জলে। শুধু মাত্র সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। শিল্পের জন্য নেওয়া ১০ একর জমি এখান গোচারনভুমিতে পরিনত হয়েছে।রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকারের মোট ১৭ কোটি ৫৫ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকার এই কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গিয়েছে। এই শিল্প হওয়াকে ঘিরে আশায় বুক বাঁধছিলেন এলাকার কৃষকরা।

বর্তমান পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব এসজেডিএ র চেয়ারম্যান থাকাকালীন ২০১২ সালে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের জলপাইগুড়ি – হলদিবাড়ি রাজ্য সড়কের ধারে বেরুবাড়িতে এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন। কিন্তু এসজেডিএ থেকে ঘোষনা করা হয়েছিল ১ বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে ছিল, প্রথম পর্যায়ের কাজে জমির উন্নয়ন ও সীমানা প্রাচীর দেওয়া,দুই লেনের অ্যাপ্রোচ রাস্তা,অফিস,এ টি এম,কনফারেন্স রুম,প্রোডাক্ট ডিসপ্লে এরিয়া,গেস্ট রুম,রেস্টুরেন্ট জায়গা নির্দিষ্ট করে তৈরি করা,সব্জির প্রশিক্ষন কেন্দ্র,চারটি চেম্বারযুক্ত সবজি মজুদ ঘর,লোডিং ও আনলোডিং পরিসেবার জায়গা তৈরি,ট্রাক পার্কিং এলাকা,কালভার্ট সমেত অভ্যন্তরীণ রাস্তা,নিকাশী নালা এবং শৌচালয় নির্মান,গভীর নলকুপ তৈরি,নিরাপত্তা রক্ষীর রুম,জেনারেটর পাওয়ার ইউনিট,বৈদ্যুতিক পরিসেবা তৈরি,অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখা,টমেটো প্রক্রিয়া করন প্রযুক্তি, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রভৃতি কাজ করা।

এসজেডিএ র পক্ষ থেকে ঘোষনা করা হয়েছিল, এই রাজ্যে প্রচুর পরিমানে টমেটো উৎপাদন হলেও ফসল তোলার পর তা ঠান্ডাঘরে মজুদ রাখার ব্যবস্থা নেই। ফলে উৎপাদিত মোট টমেটোর ৫০ শতাংশ পরিবহন, রপ্তানির সময় নষ্ট হয়।এই কারনে রাজ্য সরকারের শিল্প বানিজ্য দপ্তরের সহযোগিতায় এবং কেন্দ্রের অ্যাসিস্ট্যান্স টু স্টেট ফর ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট ফর এক্সপোর্ট( এ এস আই ডি ই) র অর্থ সাহায্যে এই শিল্প গড়ার পরিকল্পনা।নেওয়া হয়েছিল।

বিষয়টি নিয়ে বিজেপির উত্তরবঙ্গের সহকারি আহ্বায়ক দিপেন প্রামানিক অভিযোগ করে বলেন, উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশী টমেটো উৎপাদন হয় কোচবিহারের হলদিবারি ব্লকে। জলপাইগুড়ি জেলা এবং কোচবিহার জেলায় উৎপাদন হয়। কিন্তু প্রতি বছর টমেটো র ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষকেরা রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে টমেটো।বাইরে চলে যাচ্ছে টমেটো।অন্য রাজ্যে এ-ই টমেটো নিয়ে গিয়ে জ্যাম,জেলি তৈরি হচ্ছে।রাজ্য সরকারের উদাসীনতার কারনেই এই শিল্প না হওয়ায় প্রায় ৫০০ কর্মসংস্থানের সুযোগ ও হাতছাড়া হয়েছে। আমরা কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পাশাপাশি রাজ্যে ভাল ফলাফল করলে এই প্রকল্প রুপায়নে উদ্যোগী হবো বলে তিনি জানিয়েছেন।

শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আমরা দুই দুইবার টেন্ডার ডেকে প্রকল্প টি শুরু করার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি।আমরা এখন নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিধিনিষেধ শেষ হলেই উদ্যোগী হবো। সরকারি ভাবে নাকি পি পি পি মডেলে এই প্রকল্প টি চালু করা যায় সেই সব দিক খতিয়ে দেখে নিয়ে নতুন উদ্যমে প্রকল্পটি চালু করার ব্যবস্থা করা হবে সংস্থার পক্ষে বলে সৌরভবাবু জানান।

জলপাইগুড়ি

Spread the love

 

Related Post

Leave a Comment