করোনাভাইরাস কি এবং এর প্রভাবে কি হয়

নোভেল করোনাভাইরাস (Novel Coronavirus) হলো এক বিশেষ প্রজাতির ভাইরাস যা প্রধানত স্তন্যপায়ী প্রাণী আর পাখিদের আক্ৰমণ করে থাকে. চিনের উহানে প্রথম এই ভাইরাসের দেখা মিলেছে. এই ভাইরাস এর প্রভাবে মানুষের শ্বাসযন্ত্র আক্রান্ত হয় এবং সর্দি, নিউমোনিয়া এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা হয়. এই ভাইরাস এর নামকরন করা হয়েছে এর বিশেষ আকৃতির জন্য. এটি দেখতে মুকুট বা করোনার মতো.

কি ভাবে ছাড়ালো এই করোনাভাইরাস

মনে করা হচ্ছে পশু-পাখির সংস্পর্শে থাকা মানুষজনই মূলত এই ভাইরাসের শিকার. তবে এ নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে এখনও পৌঁছতে পারেনি গবেষক ও চিকিৎসা মহল. আরেকটি মহলের ধারণা চীনাদের বিভিন্ন পশু পাখি খাবার অভ্যাসই এর রোগ ছড়ানোর পেছনে মূল কারণ এবং উহানের অবৈধ বন্যপ্রাণীর বাজার থেকেই ছড়িয়েছে এই রোগ.

চিনের স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা WHO) এখনও তদন্ত চালাচ্ছেন, ঠিক কীভাবে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটল, তা নিশ্চিত করতে।

বিবর্তন

ষাটের দশকে প্রথম করোনা ভাইরাস আবিষ্কার হয়. একই গোত্রীয় ভাইরাস সার্স প্রথম ধরা পরে ২০০৩ এ. আসলে একটি ভাইরাস বিভিন্ন সময় তার জিনগত মিউটেশন ঘটিয়ে নানা ধরনের অসুখ তৈরি করতে পারে. সারা বিশ্ব জুড়েই প্রায়ই অকারণ ও অত্যধিক অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে শরীরে সুপারবাগসের উপস্থিতি সমস্যায় ফেলছে রোগী ও চিকিৎসককে. ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারে শরীর নিজের মধ্যেই সেই অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে এক প্রতিরোধ তৈরি করে. ফলে ঘন ঘন সেই ওষুধ নেওয়ার ফলে একটা সময়ের পর তা আর শরীরে কাজ করে না. শরীরে উপস্থিত ব্যাকটিরিয়া ওষুধের সঙ্গে লড়ার ক্ষমতা অর্জন করে ফেলে. জিনগত মিউটেশনের ফলে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে সে. অতিরিক্ত ক্ষমতাসম্পন্ন সেই জীবাণুদেরই চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে ‘সুপারবাগস’.

মানব দেহে এর প্রভাব

ই ভাইরাসের কারণে সর্দি-কাশির উপসর্গ তাকে. সাধারণত অসুখ বেড়ে নিউমোনিয়ায় পরিণত হতে পারে. সঙ্গে প্রবল তাপমাত্রা থাকে শরীরে. কারও ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্টও হয়. সাধারণত সর্দি-কাশির এই ভাইরাস ৬ ফুট দূরত্ব পর্যন্ত সহজগম্য. আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সংস্পর্শ এলে বা তার সঙ্গে হাত মেলালেও করোনাভাইরাস শরীরে বাসা বাঁধতে পারে

প্রতিরোধের উপায়

যেহেতু এই ভাইরাস সমষ্টির এটি একটি নতুন রূপ, সেহেতু এখনও এটির বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন অথবা প্রতিষেধক টীকা আবিষ্কৃত হয় নি. তবে WHO-এর একটি বিবৃতি অনুযায়ী, “একাধিক উপসর্গেরই চিকিৎসা সম্ভব, অতএব চিকিৎসা হবে আক্রান্তের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে”. ভাইরাসের হানা রুখতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলবে এমন ডায়েটেও রাখতে হবে আস্থা.

এখন অবধি এই ভাইরাস এর প্রভাব

চিনা নববর্ষের ছুটি থাকায় এই ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা বেড়েছে, যেহেতু অনেকেই ছুটিতে দেশের বাইরে যাচ্ছেন. তা সত্ত্বেও করোনাভাইরাসের প্রসার রোধে উহান শহরকে একরকম তালাবন্দি করে ফেলেছে চিনের সরকার. উহান থেকে বন্ধ করা হয়েছে সমস্ত বহির্গামী উড়ান, এবং অচল করে দেওয়া হয়েছে শহরের জন পরিবহণ ব্যবস্থা. এই মারণ ভাইরাসের আক্রমণে এখন অবধি মৃত্যু হয়েছে ২১৩ জনের. ব্রিটিশ, ইতালীয় এবং আরো অনেক ইউরোপিয়ান দেশ এই ভাইরাসএ অক্ষরান্ত ব্যাক্তি দের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে. চিনের হুবেই প্রদেশ থেকে বিভিন্ন দেশের নাগরিক দের ফেরত নিয়ে আসার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে.

Spread the love

 

Related Post

Leave a Comment